Home / গঠনতন্ত্র

গঠনতন্ত্র

ধারা – ০১

 

সংগঠনের নামঃ বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এ্যাসোসিয়েশন (বোমা) নামে অভিহিত হইবে।

 

ধারা – ০২

 

(ক)সংগঠনের ঠিকানা ঃ ঢাকা-১০০০।

 

(খ)সংগঠনের পতাকা ও মনোগ্রামের বর্ননাঃ

 

পতাকা হইবে গাঢ় নীল রংয়ের একটি উপড়ে নিচে আকাশী রংয়ের দুটি তথ্য প্রবাহের ঢেউ প্রবাহিত হয়ে দুটি অর্ধ বৃত্তাকার বলয়ে মিলিত হচ্ছে যার নিচে ইংরেজি হরফে লেখা BOMA থাকবে মাঝখানে সাদা রংয়ের সংগঠনের মনোগ্রাম।

 

ধারা – ০৩

 

রেজিষ্ট্রেশনঃ এই সংগঠন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বানিজ্য মন্ত্রানালয়ের তালিকাভূক্তির কার্য্যালয় থেকে নিবন্ধনী/রেজিষ্ট্রেশন করা হইবে।

 

ধারা – ০৪ সংগঠনের কার্য্যক্রমের আওতাভূক্ত এলাকাঃ  সমগ্র বাংলাদেশ

 

ধারা – ০৫ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

এই সংগঠন সম্পূর্ন ভাবে অরাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সংগঠন যা  অনলাইন মিডিয়ার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেখবালসহ অনলাইন গণমাধ্যমের অংশীদারগণের সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশের মধ্য সারাদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্য্যক্রম গ্রহন ও পরিচালনা করিবে।

 

ধারা – ০৬

(ক) সংগঠনের সদস্য হওয়ার যোগ্যতাঃ

 

অনলাইন মিডিয়ার সাথে জড়িত প্রত্যেকে জনপ্রতি ১০০০/- (এক হাজার) টাকা ফি দিয়া সংগঠনের আইন-কানুন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফরমে সদস্যভুক্তির আবেদন করিতে পারিবেন। প্রত্যেক সদস্যকে নিয়মিত ২০০/- (দুইশত) টাকা হারে মাসিক চাঁদা পরিশোধ করিতে হইবে।

 

(খ) সদস্যদের শ্রেণী বিভাগঃ

 

(১) পৃষ্ঠপোষক সদস্য (২) উপদেষ্টা সদস্য (৩) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (৪)  সাধারন সদস্য (৫)সহযোগী সদস্য

 

(গ) বিভিন্ন প্রকার সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

 

(১) পৃষ্ঠপোষক সদস্যঃ

 

মিডিয়ার সাথে জড়িত যে কোন গুরুত্বপূর্ন বা সম্মানিত যোগ্যব্যক্তি যদি এক কালীন ১,০০,০০০/- (এক লাখ) টাকার অধিক বা তৎসমতুল্য স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি সংগঠনে দান বা অনুদান প্রদান করেন, তাহা হইলে কার্য্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে উক্ত ব্যক্তিকে সংগঠনের ‘পৃষ্ঠপোষক সদস্য’ হিসাবে মনোনীত করা যাইবে। তবে পৃষ্ঠপোষক সদস্যদের সংখ্যা ৭জনের অধিক হইবে না। কার্য্যনির্বাহী পরিষদ পৃষ্ঠপোষক সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ করিতে পারিবেন।

 

(২) আজীবন সদস্যঃ

 

অনলাইন মিডিয়ার সাথে জড়িত যে কোন যোগ্য ব্যক্তি যদি এককালীন ১,৫০,০০০/- (এক লাখ পঞ্চাশ হাজার) টাকার অধিক বা তৎসমতুল্য স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি সংগঠনে দান বা অনুদান করিলে বা সংগঠনের বিশেষ বিবেচনায় (অনুদান বিহীন) কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তে উক্ত ব্যক্তিকে সংগঠনের ‘আজীবন সদস্য’ হিসাবে মনোনীত করিতে পারিবেন।

 

(৩) উপদেষ্টা সদস্যঃ

মিডিয়ার সাথে জড়িত যে কোন গুরুত্বপূর্ন বা সম্মানিত সৎ যোগ্যব্যক্তি যদি এককালীন ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকার অধিক বা তৎসমতুল্য স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি সংগঠনে দান বা অনুদান প্রদান করিলে বা সংগঠনের বিশেষ বিবেচনায় (অনুদান বিহীন) কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তে উক্ত ব্যক্তিকে সংগঠন ‘উপদেষ্টা সদস্য’ হিসাবে মনোনীত করিতে পারিবেন। এর মেয়াদ ২ (দুই) বছর স্থায়ী হইবে। উপদেষ্টা সদস্যদের সংখ্যা ১০ জনের অধিক হইবে না। কার্য্যনির্বাহী পরিষদ উপদেষ্টা সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে ‘প্রধান উপদেষ্টা’ করিতে পারিবেন।

 

(৪) প্রতিষ্ঠাতা সদস্যঃ

 

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালে সর্ব প্রথম সভায় যাহারা উপস্থিত ছিলেন, তাহারা প্রত্যেকেই সংগঠনের ‘প্রতিষ্ঠাতা সদস্য’ হিসেবে বিবেচিত হইবেন।

 

(৫) সাধারন সদস্যঃ

সংগঠনের নির্দিষ্টফর্মে ১০০০/- (এক হাজার) টাকা ভর্তি ফি দিয়ে সদস্য ভুক্তির জন্য আবেদন করা যাইবে। কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সংখ্যা গরিষ্ট ভোটের মাধ্যমে সদস্য ভূক্তির বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হইবে।

(৬) শুধুমাত্র অনলাইনে নির্দিষ্টফর্ম পূরণ করে দিলে কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সম্মতিতে সহযোগী সদস্যার পদ লাভ করবে। এই সহযোগী সদস্যার মূলত ২বছর পরযবেক্ষন কাল অতিক্রান্ত করার পর কার্য্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ সদস্যর  মর্যাদা পাবে।

 

ধারা – ০৭

 

সদস্য পদ স্থগিত ও বাতিল করার নিয়মাবলীঃ

(১) সদস্য পদ প্রাপ্তির ৬ মাস চাঁদা না দিলে।

(২) পর পর ৩টি আহুত সভায় অনুপস্থিত থকিলে।

(৩) সংগঠনের স্বার্থের পরিপন্থি কোন কাজ করিলে।

(৪) মৃত্যু হইলে বা মস্তিস্ক বিকৃত হইলে।

(৫) সাময়িক বরখাস্তকৃত অথবা বাতিলকৃত সদস্যর কো-সদস্য পদ প্রদানের বা নবায়নের পদ্ধতি বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করিতে হইবে।

 

 

 

ধারা – ০৮

 

সাংগঠনিক কাঠামোঃ

 

সংগঠনের ব্যবস্থাপনা কমিটির সমুহের নাম ঃ (ক) সাধারণ পরিষদ (খ) কার্য্যনির্বাহী পরিষদ (গ) উপদেষ্টা পরিষদ।

 

(ক)       সাধারণ পরিষদঃ

 

সকল সদস্যের সমন্বয়ে সাধারন পরিষদ গঠন করা হইবে। এই পরিষদে কমপক্ষে ৫১ জন সদস্য থাকিবেন। এই কমিটি কেবল মাত্র সভাপতির অনুরধে সাধারণ সম্পাদক বছরে একবার এবং বিশেষ  প্রয়োজনে একাধিক বার সভায় মিলিত হইতে পারিবেন।

 

(খ)        কার্যনির্বাহী পরিষদঃ

 

সাধারণ পরিষদের সকল সদস্যদের ভোটে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কার্য্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হইবে। এই কমিটির মেয়াদ হইবে ২ (দুই) বছর।

 

কার্য্যনির্বাহী পরিষদের তালিকাঃ

 

সভাপতি – ১ জন   সহ-সভাপতি – ১ জন  সাধারণ সম্পাদক – ১ জন  সহ সাধারণ সম্পাদক – ১ জন  অর্থ সম্পাদক – ১ জন  নির্বাহী সদস্য – ২ জন।  সর্ব মোট = ০৭ জন।

 

(গ)        উপদেষ্টা পরিষদঃ

সংগঠনের উন্নয়নমূলক কাজে পরামর্শ ও সংকট নিরসনের জন্য সংগঠনের একটি উপদেষ্টা কমিটি থাকিবে। এই কমিটির মেয়াদ হইবে ২ (দুই) বছর। এই কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩-৭ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিবে। এর মধ্যে একজন প্রধান উপদেষ্টা থাকিবে।

 

(৪)        এডহক কমিটিঃ

যদি কোন কারনে কার্য্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা সম্ভব না হয় তাহা হইলে উপদেষ্টা কমিটি কর্তৃক মনোনীত সদস্যদের নিয়ে ৯০ দিনের জন্য এই কমিটি গঠিত হইবে। ৯০ দিনের মধ্যে অবশ্যই কার্য্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হইবে।

 

 

 

ধারা – ০৯

 

পরিষদের কার্য্যবলীঃ

 

(১)                সাধারন পরিষদঃ

(ক) এই পরিষদ কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের নির্বাচনের ব্যবস্থা করিবেন।

(খ) কার্য্যনির্বাহী পরিষদের কার্য্য পরিচালনা, পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য এই পরিষদ সার্বিক সহযোগিতা ও উপদেশ প্রদান করিবেন।

 

(২)               কার্য্য নির্বাহী পরিষদঃ

 

(ক) এই পরিষদ সংগঠনের যাবতীয় কাজ সংগঠনের পক্ষে পরিচালনা করিবেন।

(খ) এই পরিষদ বার্ষিক বাজেট, রিপোর্ট ইত্যাদি প্রণয়ন করে সাধারন পরিষদের নিকট পেশ করিবেন।

(গ) এই পরিষদ সংগঠনের অভিভাবক হিসাবে কাজ করিবেন।

(ঘ) বার্ষিক, সাধারন, বিশেষ, জরুরী ও তলবী সভার তারিখ, সময় ও স্থান নির্দ্ধারন করিবার ক্ষমতা এই পরিষদের থাকিবে।

(ঙ) এই পরিষদ সরকারী/বেসরকারী সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য সদস্য/সদস্যা মনোনীত করিতে পারিবেন।

(চ) বিশেষ কার্য্য সম্পাদনের জন্য একটি উপ-পরিষদ গঠনের ক্ষমতা এই পরিষদের থাকিবে।

(ছ) ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত এই পরিষদ খরচ করিতে পারিবেন। এর উর্দ্ধে খরচ করিতে হইলে সাধারন পরিষদের অনুমোদন নিতে হইবে।

(জ) এই পরিষদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করিবেন।

(ঝ) নব নির্বাচিত পরিষদের নিকট বিদায়ী পরিষদ নির্বাচনের পর ১৫ দিনের মধ্যে  পরিষদের যাবতীয় কার্য্যবলী ও আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করিতে বাধ্য থাকিবেন।

(ঞ) সংগঠনের যাবতীয় কার্য্যক্রম পরিচালনার সম্পূর্ন দায়িত্ব এই পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে। এই পরিষদ শুধুমাত্র সাধারন পরিষদের নিকট জবাবদিহি করিতে বাধ্য থাকিবেন।

(ট) এই পরিষদ কর্তৃক সংগঠনের সকল প্রকার কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, সম্মানী ইত্যাদি প্রদান করার ক্ষমতা থাকিবে।

 

(৩)               উপদেষ্টা পরিষদঃ

(ক) এই পরিষদ সংগঠনের আইনগত, প্রশাসনিক, কল্যানমূখী যাবতীয় পরমর্শ প্রদান করিবেন।

(খ) নির্বাহী পরিষদ/সাধারন পরিষদ বা সংগঠনের মধ্যে কোন প্রকার মনোমালিন্য বা গোলযোগ দেখা দিলে এই পরিষদ তাহা মিমাংসা করিবার ক্ষমতা রাখিবেন।

 

ধারা – ১০

 

কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য/সদস্যাগনের অধিকার ও ক্ষমতাঃ

(১)     সভাপতি/সভানেত্রীঃ

(ক) সংগঠনের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। কোন সাধারন সভার প্রয়োজন মনে করিলে সভা আহবানের জন্য সাধারন সম্পাদককে লিখিত ভাবে অনুরোধ করিবেন।

(খ) সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও কোষাধাক্ষের নামে একটা যৌথ ব্যাংক একাউন্ট থাকিবে। তিনজনের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা তোলা যাইবে।

(গ) কোষাধাক্ষের অনুপস্থিতিতে সাধারন সম্পাদক, সভাপতি ও সহ-সভাপতির স্বাক্ষরে টাকা তুলিতে পারিবেন। তবে তাহা পরবর্তিতে কোষাধাক্ষের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

(ঘ) সভার প্রত্যেক কার্য্য বিবরনীতে সভাপতির স্বাক্ষর থাকিবে।

(ঙ) সভার কোন সিন্ধান্তে মত বিরোধ দেখা দিলে তিনি ভোটের মাধ্যমে সমাধান করিবেন।

 

(২)       সহ সভাপতি/সহ সভানেত্রীঃ

(ক) তিনি সকল সময় সভাপতির যাবতীয় কার্য্যক্রমের জন্য সহায়তা/পরামর্শ করে কার্য্য সম্পাদনা করিবেন।

(খ) সকল সময় সভাপতির সকল প্রকার কাজের সহায়তা করিবেন।

(গ) তিনি সভাপতির অনুপস্থিততে সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং সভাপতির অনুপস্থিততে সভার যাবতীয় কার্য্য সম্পাদন করিবেন।

 

(৩)               সাধারণ সম্পাদকঃ

(ক) তিনি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

(খ) তিনি সংগঠনের যাবতীয় কার্য্য পরিচালনার জন্য দায়ী থাকিবেন। বছর শুরুতে তিনি কার্য্যনির্বাহী পরিষদে বাজেট পেশ করিবেন।

(গ) তিনি সাধারণ সভা ও কার্য্যনির্বাহী সভা আহবান করিবেন এবং সমুদয় সভার কার্য্য বিবরণী নিজে লিপিবদ্ধ করিবেন। সকল শ্রেণীর ফাইল-পত্রসহ অন্যান্য কার্য্য তিনি তত্ত¡াবধান করিবেন এবং সংগঠনের সকল প্রকার সরঞ্জাম, কাগজ-পত্র, খতিয়ান ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষনের জন্য দায়ী থাকিবেন।

(ঘ) সংগঠনের আয় বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা এবং বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা করিবেন এবং সরকারী-বেসরকারী  ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার যোগাযোগ রক্ষা ও কাজ চালিয়ে যাইবেন।

(ঙ) তিনি ২০ (বিশ হাজার)টাকা পর্যন্ত খরচ করিতে পারিবেন। এর উর্দ্ধে খরচ করিতে হইলে কার্য্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদন নিতে হইবে।

(চ)  সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও কোষাধাক্ষের নামে একটা যৌথ ব্যাংক একাউন্ট থাকিবে।

(ছ) সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও কোষাধাক্ষের একত্রিত স্বাক্ষর নিয়ে টাকা তোলা যাইবে।

(জ) কোষাধাক্ষের অনুপস্থিতিতে সাধারন সম্পাদক, সভাপতি ও  সহ-সভাপতির স্বাক্ষরে টাকা তুলিতে পারিবেন। তবে তাহা পরবর্তিতে কোষাধাক্ষের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

 

(৪)       সহ-সাধারণ সম্পাদকঃ

তিনি সাধারন সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে সাধারন সম্পাদকের সকল কার্য্য পরিচালনা করার ক্ষমতা থাকিবে।

(৫)      কোষাধাক্ষ্যঃ

(ক) তিনি সংগঠনের আয়-ব্যয়, হিসাব ও তহবিল রক্ষা করিবেন। তিনি সকল প্রকার চাঁদা অনুদান সহ সমস্ত আয়-ব্যয়ের ভাউচার বিল সংরক্ষন ও বাৎসরিক প্রতিবেদন তৈরি করিবেন।

(খ) সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও কোষাধাক্ষের নামে ব্যাংকে একটা যৌথ হিসাব খোলা হইবে। কোষাধাক্ষ্যসহ তিনজনের স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা যাইবে।

(গ) কোষাধাক্ষের অনুপস্থিতিতে সাধারন সম্পাদক, সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতির স্বাক্ষরে টাকা তুলিতে পারিবেন। তবে তাহা পরবর্তিতে কোষাধাক্ষের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

 

 

(৬) নির্বাহী সদস্যঃ

নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দায়িত্বভার গ্রহন করিবেন এবং তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হইবেন।

 

ধারা – ১২

 

সংগঠনের আয়

(ক) সদস্যদের চাঁদা, ভর্তি ফি, এককালীন বিশেষ চাঁদা এবং অন্যান্য চাঁদার অর্থ।

(খ) দানশীল ব্যক্তিদের দেওয়া টাকা বা স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তির অর্থ।

(গ) সাংস্কৃতিক বা অন্যান্য অনুষ্ঠান থেকে উপার্জিত অর্থ।

(ঘ) সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত যে কোন প্রতিষ্ঠানের আয়ের অর্থ।

(ঙ) সরকারী/বেসরকারী/সায়ত্ব-শাসিত সংস্থা কর্তৃক দেওয়া অনুদানের আদায়ী অর্থ।

(চ) বিদেশী/দাতা দেশ সমূহ/এনজিও প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত অনুদানের অর্থ।

(ছ) অন্যান্য বিভিন্ন খাত হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

 

 

 

ধারা – ১১

 

তহবিলঃ

(ক) সংগঠনের যাবতীয় আয় কার্য্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক ব্যাংকে জমা থাকিবে।

(খ) কার্য্যনির্বাহী পরিষদের নির্দেশ ক্রমে এক বা একাধিক খাতে ব্যাংক হিসাব খুলিতে পারিবে।

 

ধারা – ১২

 

তহবিলের ব্যবহারঃ

(ক)  সংগঠনের অফিস ভাড়া বা জায়গা জমি ক্রয় করা বা বিল্ডিং তৈরী, কার্যালয়ের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র বা অন্যান্য জিনিস পত্র ক্রয় করা বা তৈরি করা।

(খ) প্রত্যেক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার জন্য পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীর জন্য জায়গা ক্রয় করা বা ভাড়া নেয়া বা অন্যান্য জিনিষ পত্র ক্রয় করা।

(গ) বিভিন্ন প্রশিক্ষন খাতে প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র ক্রয় করা এবং ঐ প্রশিক্ষনে যাবতীয় ব্যয় ভার বহন করা।

(ঘ) কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ভাতা/সম্মানী ভাতা ও অন্যান্য খরচাদি বহন করা।

 

ধারা – ১৩

 

হিসাব পরীক্ষাঃ

(ক) নিবন্ধীকরন কর্তৃপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি দ্বারা বছরে কমপক্ষে একবার সংগঠনের যাবতীয় তহবিলের হিসাব পরীক্ষা করাইতে হইবে। উক্ত হিসাব পরীক্ষকের রির্পোট সাধারণ সদস্যদের জ্ঞাতার্থে সভায় উপস্থাপন করিতে হইবে।

(খ) সুষ্ঠ হিসাব রক্ষার জন্য ৬ মাস অন্তর অভ্যন্তরীন হিসাব পরীক্ষা করিতে হইবে। অভ্যন্তরীন হিসাব পরীক্ষার জন্য নির্বাহী পরিষদ ৩ জন সদস্যকে নিযুক্ত করিবেন এবং উক্ত হিসাব পরীক্ষার যাবতীয় ফলাফল নিয়মিত সভায় পর্য্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করিতে হইবে।

(গ) ৭ দিনের নোটিশে সংগঠনের হিসাব পত্রের বইগুলো কার্য্যনির্বাহী পরিষদের যে কোন সদস্য সংগঠন কার্যালয়ে পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন।

 

ধারা – ১৪

 

নিয়োগঃ

(ক) সংগঠনের সকল প্রকার কার্যাবলী পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সার্বক্ষনিক কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ করিতে পরিবেন। এই নিয়োগ অবশ্যই লিখিতভাবে  হইতে হইবে।

(খ) কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগের পূর্বে সংগঠনের কর্মসূচীর একটি পরিকল্পনা তৈরি করিতে হইবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে। তাহার বিস্তারিত বিবরণ লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(গ) নিয়োগের জন্য একটি বোর্ড গঠন করিতে হইবে। বোর্ডে অবশ্যই সদস্য সংখ্যা ৩ থেকে ৫ জনের অধিক হইবে না।

(ঘ) নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারীকে যোগদানের তারিখ হইতে কমপক্ষে ৯ মাস পর্যন্ত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নির্দ্ধারিত ভাতায় কাজ করিতে হইবে।

 

ধারা – ১৫

 

সভাঃ

 

১।   সাধারণ পরিষদের সভাঃ

(ক) বছরে কমপক্ষে একবার সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

সভাপতির অনুমতি ক্রমে সাধারন সম্পাদক সভার অনুন্য ১০ দিন পূর্বে সভার সময় স্থান ও তারিখ উল্লেখ করে সকল সদস্যকে নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করিবেন।

(খ) সভার আবশ্যক নির্দিষ্ট সংখ্যা পুরনের জন্য কোরাম মোট সদস্যদের ৬০% সদস্য উপস্থিত থাকিতে হইবে এবং  মোট সদস্যের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা যাইবে।

(গ) বার্ষিক সাধারন সভায় সংগঠনের যাবতীয় আয় ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন করিয়ে নিতে হইবে।

(ঘ) জুন মাসের শেষ সপ্তাহে সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

 

২।        বিশেষ সাধারণ সভাঃ

সংগঠনের আন্দোলন বা অনুরুপ বিশেষ কাজের জন্য বিশেষ সাধারন সভা আহবান করা যাইবে এবং সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইবে।

 

৩।        কার্যকরী পরিষদের সভাঃ

(ক) অন্তত প্রতি মাসে একবার কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে। পর পর ৩টি সভায় অনুপস্থিত হইলে কার্য্যনির্বাহী পরিষদের যে কোন সদস্য তাহার সদস্য পদ হারাইবেন।

(খ) সভাপতির অনুরোধ ক্রমে সাধারন সম্পাদক ৩ দিনের নোটিশে কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করিতে পারিবেন।

(গ) সভার আবশ্যক নির্দিষ্ট সংখ্যা পুরনের জন্য ৬০% সদস্য দ্বারা কোরাম হইবে।

 

৪।        তলবী সভাঃ

(ক) দুই তৃতীয়াংশ সদস্য দ্বারা লিখিত ভাবে অনুরোধ ক্রমে সাধারন সম্পাদক এ সভা আহবান করিতে পারিবেন।

(খ) এই সভায় কম পক্ষে ৭ দিন আগে নোটিশ প্রদান করিতে হইবে।

 

 

 

ধারা – ১৬

 

সভায় নোটিশঃ

(ক) সভাপতির সহিত আলোচনা করিয়া সাধারন সম্পাদক সভার স্থান, তারিখ ও সময় নির্দ্ধারণ করিয়া নোটিশ জারী করিবেন।

(খ)  বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের কমপক্ষের ১৫ দিন পূর্বে, বিশেষ সাধারণ সভা/কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সভা/তলবী সভা অনুষ্ঠানের কমপক্ষে ৩ দিন আগে সভার নোটিশ প্রদান করিতে হইবে।

(গ) সংগঠনের কার্য্যনির্বাহী পরিষদ ও সদস্যদের মধ্যে কোন রকম জটিলতা দেখা দিলে জরুরী অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতির সহিত আলোচনা ক্রমে অথবা আলোচনা বিহীন সাধারন সম্পাদক অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ের নোটিশে সাধারন সভা/কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করিতে পারিবেন।

 

 

 

ধারা – ১৭

 

নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রণালীঃ

(ক) প্রতি ২ বছর অন্তর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

(খ) ৩০ শে জুনের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হইতে হইবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কার্য্যনির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা নিযুক্ত হইবেন।

(গ) নির্বাচন গোপন ব্যালট/হাত দেখাইয়া হইতে পারিবে।

(ঘ) নির্বাচনের ৩০ দিন পূর্বে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করিবেন না এমন সদস্যের সমন্বয়ে একটি নির্বাচন উপ-পরিষদ বা নির্বাচন কমিশন বিশেষ সাধারণ সভায়/ কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সভায় গঠন করিতে হইবে। যাহার কাজ হইবে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

(ঙ) মিডিয়ার সংগে জড়িতদের মধ্য থেকে নির্বাচন কমিশনের সদস্য মনোনীত করতে হইবে। শুধুমাত্র সুষ্ঠ নির্বাচন নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচনের সময় আইনের বিষয় পরামর্শের জন্য একজন আইনজীবি এই কমিশনে মনোনীত করিতে পারিবেন। এই কমিশনের সদস্য সংখ্যা ৭ জনের  অধিক হইবে না।

(চ) প্রত্যেকটি পদে অথবা প্রধান প্রধান পদে সরাসরি ভোটে নির্বাচন হইবে।

(ছ) নির্বাচনের তপশীল ঘোষনার ১৫ দিন পূর্বে নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করিবেন। ভোটার ও সদস্যদের সুবিধার জন্য এই ভোটার তালিকা সংগঠনে কার্যালয়ে ঝুলাইয়া রাখিবেন।

(জ) প্রকাশিত ভোটার তালিকার ব্যপারে আপত্তির শুনানী অবশ্যই ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে।

(ঝ) নির্বাচনের তপশীল ঘোষনার ৫ দিন পূর্বে নির্বাচন কমিশন চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করিবেন। ভোটার ও সদস্যদের সুবিধার জন্য এই চুড়ান্ত ভোটার তালিকা সংগঠনে কার্যালয়ে ঝুলাইয়া রাখিবেন।

(ঞ) নির্বাচনের তপশীল ঘোষনার দিন থেকে ৫ দিনের মধ্যে মনোনয়ন পেশ করিতে হইবে। পরবর্তীতে মনোনয়ন প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ, অন্যান্য আইন কানুন ইত্যাদি নির্বাচন কমিশন ঠিক করিবেন। তবে অবশ্যই প্রার্থী এবং পূর্ববর্তী কার্য্যনির্বাহী কমিটির পরামর্শ গ্রহন বাধ্যতামূলক।

(ট) হাত দেখাইয়া কার্য্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন সদস্য যে কোন একটি মাত্র পদের জন্য একজন সদস্যের নাম প্রস্তাব করিতে পারিবেন এবং অন্যান্য সদস্য কর্তৃক উহা সমর্থিত হইতে হইবে।

(ঠ) নির্বাচনের ব্যাপারে কোন রুপ গোলযোগ দেখা দিলে নির্বাচন উপ-পরিষদ বা নির্বাচন কমিশন মতামতই চুড়ান্ত বলিয়া গন্য হইবে।

(ড) নির্বাচনের পূর্বে প্রত্যেক সদস্যের চাঁদা ও অন্যান্য ফি অবশ্যই পরিশোধ করিতে হইবে।

 

ধারা – ১৮

 

কার্য্যনির্বাহী পরিষদের স্থিতিকালঃ

সংগঠনের সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী কোন সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত আগের কার্য্যনির্বাহী পরিষদ সংগঠনের কাজ পরিচালনা করিবেন। কমিটির মেয়াদ কাল ২ (দুই) বছর হইবে। তবে নির্বাচনের উপর সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকিলে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আগের কমিটি কাজ পরিচালনা করিয়া যাইবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহরের ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করিতে হইবে।

 

ধারা – ১৯

 

অনাস্থা প্রস্তাবঃ

(ক) সংগঠনের দুই তৃতীয়াংশের ঐক্যমতে কার্য্যনির্বাহী পরিষদ যে কোন কর্মকর্তা/সদস্যর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনিতে পারিবে।

(খ) এই রুপ ক্ষেত্রে অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনার জন্য তাহারা সভাপতি/সাধারন সম্পাদককে ৭ (সাত) দিনের মধ্যে বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করিতে অনুরোধ করিবেন।

(গ) ব্যর্থতায় অনাস্থা প্রস্তাব আনায়নকারীগনের মধ্যে যে কোন ৫ (পাঁচ) জনের স্বাক্ষরে ৭ দিনের নোটিশে সাধারাণ সভা আহবান করিতে পারিবেন। উভয় ক্ষেত্রেই ৬০% সদস্যর সমর্থন প্রয়োজন হইবে।

 

ধারা – ২০

 

গঠনতন্ত্রের সংশোধনঃ

(ক)  সংগঠনের সংবিধান বা উহার যে কোন ধারাকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংক্ষিপ্তকরন, সংশোধন এক কথায় সংবিধানে নতুন কিছু করিতে হইলে বার্ষিক সাধারণ সভায় বা এতদুদ্দেশ্য আহুত কোন বিশেষ সভায় ইহা উপস্থাপন করিতে হইবে।

(খ)  উক্ত সভায় উপস্থিত সদস্যের মোট ৬০% ভোটে পাশ হইলে কেবল উহা করা সম্ভব হইবে।

(গ)  নতুন সংশোধিত সংবিধানে ৩ কপি সংশ্লিষ্ট সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান, বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের নিবন্ধনী করণ কার্যালয়ে পাঠাইতে হইবে এবং উক্ত কার্যালয় থেকে অনুমোদন হইলেই উহা কার্য্যকর হইবে।

 

ধারা – ২১

 

সংগঠনের বিলূপ্তীঃ

(ক) সংগঠনের ৮০% সদস্য সরিয়া না দাঁড়াইলে বা চলিয়া না গেলে সংগঠন ভংগ হইবে না বা পরিসমাপ্তি ঘটিবে না।

(খ) যদি কোন আর্থিক বা অন্যকোন কারনে সংগঠন পরিচালনা করা না গেলে সংগঠনের ৮০% সদস্যের মতামত নিয়ে সংশ্লিষ্ট রেজিষ্টারী/নিবন্ধনী করণ কার্যালয়ে জানাইতে হইবে।

(গ)  এ ব্যাপারে নিবন্ধনী করণ কার্যালয়ের সিন্ধান্তই চুড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

 

এ কে এম শরীফুল ইসলাম খান

সাধারন সম্পাদক, বোমা।